Friday, 13 March 2026
RSS Facebook Twitter Linkedin Digg Yahoo Delicious
সংবাদ শিরোনাম
 

প্রবাসীদের নিবন্ধন ছাড়াল ৩ লাখ ৭ হাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৩৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮৪ হাজার ১৭৩ ও নারী ২৩ হাজার ২১৯ জন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ইসির পোস্টাল ব্যালটের অ্যাপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ইসির ওয়েব সাইট থেকে বিষয়টি জানা গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে নিবন্ধিত প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এক্ষেত্রে প্রবাসী, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এজন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যে সকল দেশে নিবন্ধন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ইত্যাদি। ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এক্ষেত্রে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি। ইসি

এভাবে চলতে থাকলে জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে: পার্থ

ভোলায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মান দেশব্যাপী সাংঘাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, এভাবে চলতে থাকলে জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মান দেশব্যাপী সাংঘাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে এবং সমগ্র দেশব্যাপী ভোটে এর প্রভাব পড়বে, অনেক দুঃখজনক ব্যাপার এটা। ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই। সংঘর্ষে নিজ দলের আহত নেতাকর্মীদের ছবি যুক্ত করে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ আরও লেখেন, ভোলা সদরে বিজেপির বিশাল এক নির্বাচনি মিছিল হয়, হাজার হাজার মানুষ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। জোহরের নামাজের পূর্বে যখন শান্তিপূর্ণ এই মিছিল শেষ হয়, তখন অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী বিজেপির কার্যালয়ে ছিল ঠিক তখনই ঈর্ষান্বিত হয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিএনপির একটি গ্রুপ কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের নিরীহ নেতাকর্মীদের মারধর করে এবং পার্টি অফিস ভাঙচুর করে। এটা দুঃখজনক, হতাশাজনক এবং আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এর আগে শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজারে অবস্থিত ভোলা জেলা বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটার আঘাতে সাংবাদিক পুলিশসহ উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। ভোলা বিএনপি সংঘর্ষ

জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ছবি ফাঁস

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে প্রথমবারের মতো জামায়াতের প্রার্থী করা হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে। এর আগে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন মাওলানা আবু ইউসুফ। ৩ ডিসেম্বর খুলনায় ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে এসে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে প্রার্থী ঘোষণা করেন। ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও জামায়াতের প্রার্থী হওয়ায় কৃষ্ণ নন্দীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এছাড়াও সম্প্রতি ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠেনর এক নেতার সঙ্গে তোলা ছবি ভাইরাল হয়েছে স্যোশাল মিডিয়ায়ায়।সেটি নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কৃষ্ণ নন্দী পেশায় ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে। পৈত্রিক নিবাসও সেখানেই। চুকনগর দিব্যপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে তিনি পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন। মোটরসাইকেল শোরুম, তেল, রড-সিমেন্ট ও টিনের ব্যবসা ছিল তার। পারিবারিকভাবে তার বাবা মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুরের অনুসারী ছিলেন। কৃষ্ণ নন্দীর দাবি, ২০০৩ সালে খুলনা-১ আসনের সাবেক জামায়াতের এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাত ধরে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষুব্ধ জনতা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসভবনে হামলা–অগ্নিসংযোগ করার আগ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি। এরপরই তিনি পুনরায় জামায়াতে সক্রিয় হন এবং উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। ৩১ অক্টোবর জামায়াতের হিন্দু সম্মেলনে তার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যোগদান করে। বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে মদপান করেছেন জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। ছবি- সংগৃহীত এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগল কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীর কয়েকটি ছবি ভাসছে। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে ওই দুজনের ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিটি ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে খুলনাবাসী ছবিটিকে শেয়ার করে উল্লেখ করছেন, কৃষ্ণ নন্দীর ভারতের বিশেষ একটি সংস্থার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির কর্মী সমর্থকেরা ছবি এবং সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের পোস্ট শেয়ার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে কৃষ্ণ নন্দীকে। কৃষ্ণ নন্দীর বিষয়ে জুলকারনাইন সায়ের জানিয়েছেন, খুলনায় ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীর নাম ঘোষণা করেন। দখলদার ইসরাইলের নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসু। ছবি-সংগৃহীত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের অত‍ি ঘনিষ্ঠ এই কৃষ্ণ নন্দী কিভাবে জনপ্রিয় স্থানীয় জামায়াত নেতা শেখ আবু ইউসুফকে হটিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেলেন সেটা নিয়ে অনেকেই বেশ দ্বিধান্বিত। প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করে কৃষ্ণ নন্দীর উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্র মারফত নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিশেষ একটি সংস্থার সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীর অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।প্রমাণ হিসেবে শিপন ও কৃষ্ণ নন্দীর কিছু ছবিও শেয়ার করে সায়ের জানিয়েছেন, একই বৈঠকে ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। স্ট্যাটাসের সঙ্গে যুক্ত করা তিনটি ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক জানান, প্রাথমিকভাবে ছবি তিনটির (এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে পাঠানো ফাইল হওয়ায় মেটাডেটা পাওয়া সম্ভব হয়নি) ফরেন্সিক এনালাইসিস করে কোন ধরনের এআই ব্যবহার বা টেম্পারিং খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিপন কুমার বসুর সঙ্গে তোলা দুটি ছবিতে উল্লেখ করা সময়ে (১৫.০২.২০২৩) কৃষ্ণ নন্দী ভারতে অবস্থান করছিলেন, ‍যা তার ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২২ বার তিনি ভারত গমন করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সায়ের। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসু। ছবি-সংগৃহীত এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘এই ছবির ব্যক্তিকে আমি চিনি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। একটি এআই জেনারেটেড ছবি ছড়িয়ে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’ এদিকে কৃষ্ণ নন্দীর রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে বিতর্কও কম নয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কৃষ্ণ নন্দী ছিলেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠজন। মন্ত্রীর সঙ্গে তার বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। চুকনগর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ জনতা কৃষ্ণ নন্দীকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ মনে করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে আগুন দেয়। নিজেকে বাঁচাতেই এখন জামায়াতের ঘাড়ে বসেছেন তিনি। এ অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ব্যবসায়ী হিসেবে মন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ঘনিষ্ঠতার কথা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ মন্ত্রী হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দেওয়া ছবি নিয়ে এখন কাদা–ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ২০০৩ সাল থেকেই জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুবান্ধব মনোভাবের কারণেই তিনি এ দলের প্রতি আস্থাশীল। অপরদিকে, খুলনা-১ আসনটি দেশের সবেচেয়ে বেশি হিন্দু অধ্যুষিত আসনগুলোর একটি। দাকোপ উপজেলায় ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং বটিয়াঘাটায় ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দু। সবমিলিয়ে এ আসনের প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোটারই হিন্দু সম্প্রদায়ের। খ্রিষ্টানরাও আছেন ২ শতাংশের বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থীরাই অধিকাংশবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনে কুবের চন্দ্র বিশ্বাস, পরেরবার প্রফুল্ল কুমার শীল জয়ী হন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা জয়ী হলেও আসন ছাড়ার পর উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে পঞ্চানন বিশ্বাস জয় পান। পরবর্তীতে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ননী গোপাল মন্ডল ও পঞ্চানন বিশ্বাস পর্যায়ক্রমে জিতেছেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় ননী গোপাল মন্ডল বিজয়ী হন। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে এ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। জামায়াত ১৯৯৬ সালে মাওলানা আবু ইউসুফকে প্রার্থী করলেও এরপর পাঁচ দফা নির্বাচনে আর প্রার্থী দেয়নি। প্রায় তিন দশক পর এবারের নির্বাচনে প্রথমে মাওলানা ইউসুফকে মনোনয়ন দিয়ে পরে পরিবর্তন করে কৃষ্ণ নন্দীকে চূড়ান্ত প্রার্থী করেছে দলটি। জামায়াতের প্রার্থী বদল নিয়েও মাঠে নতুন আলোচনা শুরু হয়। নিজে মনোনয়ন হারালেও মাওলানা আবু ইউসুফ বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষ্ণ নন্দীই প্রার্থী। আমি প্রচারণা চালাচ্ছি।’ অন্যদিকে বিএনপিও এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে। দলটি পূর্বের মতো এবারও আমীর এজাজ খানকে প্রার্থী করেছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি কখনো। তবে আমীর এজাজ খান আসনটিতে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন। এ বাস্তবতায় জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী ভোটের লড়াইয়ে কতটা দাঁড়াতে পারবেন তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা। তবে কৃষ্ণ নন্দীর দাবি, এ আসনে তার ব্যাপক আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজন রয়েছে, যারা তার পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘দাকোপ–বটিয়াঘাটা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার মানুষ আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে। হিন্দু– মুসলিম সবাইকে একত্রিত করেই আমি নির্বাচন করব।’ সব মিলিয়ে খুলনা-১ আসনে জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দীকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ, সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ভোটারদের মনে প্রশ্ন তিনি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে পারবেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

হাওরের প্রকল্প স্থগিত

কিশোরগঞ্জসহ দেশের ৮ জেলার হাওর অঞ্চলে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক এ প্রকল্পটি প্রস্তাব দিয়েছিল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রকল্প স্থগিত করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩০৫ কোটি, ইফাদের ঋণ ৮৫১ কোটি, ডানিডার অনুদান ১০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হলে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাধা দেন। তিনি বলেন, হাওরে পরিবেশ নষ্ট করে অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে স্থগিত করা হয়েছে। হাওরের অবকাঠামো নির্মাণ অংশ বাদ দিয়ে ডিপিপি সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

দেশপ্রেমিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

আচ্ছা, বলেন তো—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাংলার মাটিতে তারেক রহমানের চেয়ে গভীরভাবে আর কোন রাজনীতিবিদ ধারণ করেছেন? কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্য আমার নেই, কারণ হাসিনা রেজিমের পতনে কমবেশি সকলেরই ভূমিকা আছে। তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব ও পাবলিক পারসেপশনের সূক্ষ্ম সাযুজ্যের প্রয়োজনে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। জুলাই চেতনার বহুমাত্রিক প্রকাশ আছে। তবে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন এ চেতনার কেন্দ্রে অবস্থান করে। ঠিক এ লক্ষ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ৫ আগস্ট–পরবর্তী তার বক্তৃতা, বিবৃতি ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যা জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাকও দিয়েছেন। ৩১ দফায় ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’-এর ধারণায় শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিজস্ব বক্তব্য থাকতেই পারে, কিন্তু এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তারেক রহমান সবাইকে এক সূত্রে গাঁথতে চান। আগস্ট বিজয়ের অব্যবহিত পরে, সম্ভবত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে আমরা কয়েকজন তার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বিভিন্ন ইস্যুতে পরামর্শমূলক আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে কিছু মহলের হঠকারী বা উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে করণীয় জানতে চাওয়া হলে তিনি ধৈর্য ও সংযমের পরামর্শ দেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল—বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা যে কোনো অভিযোগের জবাবে ‘ডিনায়াল মেথড’ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন তিনি। তার বক্তব্য ছিল, ‘আমাদের দোষত্রুটি থাকতে পারে। কেউ ধরিয়ে দিলে আমরা স্বাগত জানাব; প্রয়োজনে আরও তথ্য জানতে চাইব, কিন্তু ঝগড়া বাধাব না। অভিযোগ সত্য হলে প্রতিকার করব।’ সংস্কার, সংশোধন ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিতে তার কোনো সংকোচ নেই। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য জনগণের ক্ষমতায়ন—এ বিষয়ে তারেক রহমানের উদারতা আমাকে বিস্মিত করেছে। অনেকের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতার দাবিদার প্রায় সবাই কখনো না কখনো হঠকারী, আত্মঘাতী বা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কারো আচরণে কূটনামি, বৈরিতা কিংবা অসহিষ্ণুতাও দেখা গেছে। তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এ চিত্র আলাদা। তিনি কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ—মোটকথা দেশের উন্নয়ন নিয়েই কথা বলেছেন। তার কাছে সবার আগে বাংলাদেশ, দল বা ব্যক্তি নয়। এজন্যই তিনি নির্দ্বিধায় বলতে পেরেছেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক—একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’ তিনি অবাস্তব কোনো স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, বরং বলছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া—জনগণের জীবনযাত্রা একটু বেটার করা।’ দেশ আজ গভীর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আসব আসব করেও গণতন্ত্র ফিরে আসছে না। আমরা এখনো অপেক্ষায় আছি আইনের শাসনের। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, ৫ আগস্টের পরপরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। কিন্তু তিনি এখনো আসেননি। এমনকি খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের শয্যায় থাকলেও তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়নি। বরং এক স্ট্যাটাসে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন—সহসা ফেরাটা সম্ভব হচ্ছে না, এবং সিদ্ধান্তটি তার একক নয়। এতে রাষ্ট্র-সমাজ-রাজনীতির বিভিন্ন মহলে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা গেল—‘অসুস্থ মায়ের পাশে নেই!’, ‘দেশকে কীভাবে নেতৃত্ব দেবেন?’—ইত্যাদি আবেগঘন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আমরা জাতি হিসাবে আবেগপ্রবণ এবং অনেক সময় চিন্তায় অগভীর। বিষয়কে জটিল করে দেখতে ভালোবাসি, কিন্তু গভীরে যাই না। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রাসঙ্গিকভাবে বিশ্লেষণ না করেই নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে। ‘অবারিত’ বা ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন’ মানেই বিদেশি চাপ আছে, তিনি কারো কাছে দায়বদ্ধ—এ ধারণা যথেষ্ট সরলীকৃত। আসল জায়গায় মনোযোগ নেই; আমরা আছি রাষ্ট্র, কূটনীতি ও রাজনীতির রংবেরঙের ব্যাখ্যা তৈরিতে। কেউ কেউ তার ইউকে রেসিডেন্সি নিয়েও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাকে ব্রিটিশ বানিয়ে ছাড়ছেন। কেউ আবার নিরাপত্তা ইস্যুকে বাড়িয়ে দেখছেন; পাকিস্তান–ভারতের উদাহরণ দিচ্ছেন, রাজীব গান্ধী বা বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডকে কেইস স্টাডি হিসাবে টেনে আনছেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসব উদাহরণ কতটা যৌক্তিক? আমরা বিষয়কে জটিল করি, কিন্তু সমাধান অনেক সময়ই সহজ। আমার পর্যবেক্ষণে, তার দেশে না ফেরার পেছনে বিদেশি চাপ, নিরাপত্তা উদ্বেগ, বা ১/১১–এর ‘টার্মস’ তেমন ভূমিকা রাখছে না। কিছু হিসাব আছে যা আমাদের দৃষ্টির বাইরে, এবং তা দেশ ও জনগণের কল্যাণের সঙ্গেই যুক্ত—এ ধারণা অমূলক নয়। কোনো দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী নেতাকে নিজের দেশে ফিরতে চাইলে বিদেশি শক্তি আটকে রাখতে পারে না। দেশপ্রেমিক নেতারা জীবনের পরোয়াও করেন না। তারেক রহমানও নয়। ইতিহাস বলছে—জিয়া পরিবার দেশকে জানে, বোঝে, এবং ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিকে বিপদে ফেলে না। তিনি যে কারণে এখনো আসছেন না—তা যাই হোক, তার লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ—এ বিশ্বাস রাখাই যুক্তিসঙ্গত। তিনি ফিরবেন—বেগম খালেদা জিয়াসহ নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে। জুলাই বন্দোবস্তের পর দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার যে প্রত্যাশা, তা-ও এখানেই প্রতিফলিত হয়। তাহলে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবারিত সুযোগ তার নেই—এতে আঁতকে ওঠার কী আছে? সহজভাবে ভাবলেই হয়। এখন প্রশ্ন—তারেক রহমান না আসায় কার কী ক্ষতি হচ্ছে? যারা তার দেশপ্রেম বা মাতৃপ্রেম নিয়ে সমালোচনা করছেন—তাদের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে—গণভোট এবং নির্বাচনও সামনে। তিনি কিছুটা দেরিতে এলেই বা কি? জাতির প্রয়োজন এখন গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়া। গণতন্ত্র কোনো প্রেম-পিরিতির বিষয় নয়। এটি চর্চার বিষয়। চর্চার মাধ্যমে ত্রুটি-ব্যত্যয় দূর হয়। শুরু থেকেই তারেক রহমান ঐক্য ও সম্প্রীতির কথা বলছেন; মানবিক রাষ্ট্র গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশে থাকা রাজনীতিবিদ ও স্টেকহোল্ডাররা যদি এ ধারণাকে গুরুত্ব দেন, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পথই প্রশস্ত হবে। তিনি দেশে থাকুন বা বিদেশে—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে তারেক রহমান বাধা নন, সহায়ক শক্তি। তারেক রহমান দেশপ্রেমিক নেতা যিনি দেশের স্বার্থ আগে দেখেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী—উপযুক্ত সময়েই তা ঘটবে, দেশের স্বার্থেই ঘটবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই অনুমানভিত্তিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। লেখক: ব্যারিস্টার আবু সালেহ মোঃ সায়েম আইনজীবী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তারেক রহমান বিএনপি

বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ তারেক রহমানের

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‌‘ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আমার চিন্তা ও প্রার্থনায় রেখেছি। আশা করি সবাই নিরাপদে আছেন।’ তিনি অগ্নিনির্বাপণকর্মী, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করে লেখেন, ‘তারা সাহসিকতা ও দ্রুততার সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন—যা পাবলিক সার্ভিসে তাদের প্রকৃত নিষ্ঠারই প্রতিফলন।’ তারেক রহমান আরও লেখেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাবলীর উদ্বেগজনক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে—চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের কারখানা ও মিরপুরের পোশাক কারখানার অগ্নিকাণ্ডও তারই উদাহরণ।’ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩৬টি ইউনিট। এছাড়া সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীও আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে আকস্মিকভাবে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

রাজশাহী বিভাগে বিএনপির ৫ আসন শরিকদের ছেড়ে দিলে ভরাডুবির শঙ্কা

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ৩ নভেম্বর ৩৪টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করলেও ৫ জেলার ৫টি আসন ফাঁকা রেখেছে। ফাঁকা এসব আসনের প্রতিটিতে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য জোট হলে বিএনপি জোট শরিক দলগুলোকে এসব আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে নির্বাচনি এলাকায় জোর আলোচনা রয়েছে। এদিকে ফাঁকা আসনগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছেন এসব আসন সম্ভাব্য জোটের শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেবে বিএনপি। যদি এসব আসন এনসিপি বা অন্য কোনো সম্ভাব্য শরিককে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে আসনগুলোয় শরিকদের বড় ভরাডুবির শঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আসনগুলো জামায়াতের ঝুলিতে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আরও বলছেন, এসব ফাঁকা আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকেই বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। একেক আসনে তিন-চারজন করে মাঠে থাকায় প্রার্থী নির্বাচন জটিলতায় মনোনয়ন ঘোষণা বন্ধ রয়েছে। দলীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে নাটোর-৩ (সিংড়া), নওগাঁ-৫ (সদর), পাবনা-১ (সাঁথিয়া), বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) ও সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সিরাজগঞ্জ সদর) আসন বিএনপি ফাঁকা রেখেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর-৩ (সিংড়া) থেকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক কাজী গোলাম মোর্শেদ পরপর তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ আসনে বিএনপির আরও তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে আসনটিতে জেলা এনসিপির সদস্য সচিব এসএম জার্জিস কাদির গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে তিনি এনসিপির মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। অধ্যাপক কাদির রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। আসনটিতে জার্জিস কাদির এনসিপির প্রভাবশালী প্রার্থী। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, আরও কোনো কোনো দলের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের বিষয়ে আলোচনা আছে। যদিও নাটোর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নাফ বলেছেন, বিএনপি আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেবে-এমন কোনো আলোচনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনটিতেও বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। এ আসনে জামায়াতের সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জিতেছিলেন। ২০১৮ সালে পাবনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন। তিনি এবারও এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এছাড়া বিএনপির আরও দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক মনোনয়নপ্রত্যাশী জানান, আসনটি বিএনপি সম্ভাব্য জোট শরিক গণফোরামকে ছেড়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে গণফোরাম নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ প্রার্থী হতে পারেন। নওগাঁ-৫ (সদর) আসনটি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিলের আসন হিসাবে পরিচিত। তবে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এই আসনটিতে জিতেছিলেন বিএনপির সামস উদ্দিন আহমদ। এবার এই আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হক সনিসহ আরও ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। মনিরা শারমিন বলেন, আমি নওগাঁ-৫ থেকে নির্বাচন করছি, এটুকু নিশ্চিত বলতে পারি। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটিতেও কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়ার সাতটি আসনের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকা হয়েছিল। ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আলোচনার সময় উঠে আসে আসনটিতে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গটি। উপস্থিত বগুড়া জেলা বিএনপির নেতারা বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেন। এদিকে সর্বশেষ জানা যায়, বিএনপিতে যোগ দেওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বিএনপিতে যোগদান করে রোববার (৯ নভেম্বর) বগুড়া-২ আসনে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। স্নিগ্ধ বলেন, ঐতিহাসিক শিবগঞ্জের মহাস্থান থেকে বিএনপির সঙ্গে তার পথচলা শুরু হলো। তিনি শিবগঞ্জের মানুষের সঙ্গে থাকবেন। তাদের জন্য কাজ করবেন। সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সদর) আসনটিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেবে নাকি সম্ভাব্য জোট শরিক দলের কাউকে ছেড়ে দেবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ২০১৮ সালে কনকচাঁপা এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি নেতা সেলিম রেজাও এই আসনের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে বিএনপি আসনটি দলীয় কোনো প্রার্থীকে দেবে নাকি সম্ভাব্য জোটের কোনো দলকে ছেড়ে দেবে, তা নিয়ে জোর আলোচনা রয়েছে এলাকায়। মনোনয়নপ্রত্যাশী কনকচাঁপা বলেন, আল্লাহ উত্তম ফয়সালাকারী। যেটা আমার জন্য ভালো, মহান আল্লাহ তাই করবেন। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার আস্থা অটুট রয়েছে। বিএনপি রাজশাহী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্ত না হতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ রিজভীর

ফেসবুকে স্বাক্ষর জাল করে পোস্ট করা ভুয়া ও বানোয়াট প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্ত না হতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে যা বিএনপি দফতর থেকে কোনো গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি। একটি কুচক্রী মহল রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে এ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে। এতে বিভ্রান্ত না হতে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করা হয়। অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানান, স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল তার স্বাক্ষর জাল করে গত ২২ আগস্ট ফেসবুকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচারিত। রিজভী বলেন, তার স্বাক্ষরে বিএনপি দফতর থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি। প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিটি বানোয়াট ও ভুয়া।

গ্যাং লিডার থেকে বিএনপির প্রচারণায়—কে এই বাবলা?

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে সক্রিয় ছিলেন। একসময় কুখ্যাত ‘এইট মার্ডার’ মামলার আসামি ও সাজ্জাদ হোসেন খানের সহযোগী হিসেবে আলোচনায় আসেন বাবলা। পরবর্তীতে গুরু সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে নিজস্ব গ্যাং গঠন করেন তিনি। এরপর থেকেই সাজ্জাদ ও বাবলার মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। বাবলাকে একাধিকবার টার্গেট করে হামলার ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ বুধবার (৫ নভেম্বর) পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, সাজ্জাদ হোসেনের হাত ধরে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন বাবলা ও তার সহযোগী নুরুন্নবী ম্যাক্সন। অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে চট্টগ্রামে ত্রাস ছড়াতেন তারা। ২০১১ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গারবিল থেকে গ্রেফতার হন ম্যাক্সন। তার তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে বাবলাকেও আটক করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি, দুটি ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে কাতারে চলে যান দুজনই। পরে সেখান থেকে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ ছিল পুলিশের। কাতারে মারামারির ঘটনায় এক মাস কারাভোগের পর ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাবলাকে দেশে ফেরত পাঠায় কাতার পুলিশ। ঢাকায় পৌঁছে বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন তিনি। পরদিন চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার খন্দকীয়া পাড়ায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাসা থেকে ৩০ রাউন্ড গুলিসহ একটি একে-২২ রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার করে। প্রায় চার বছর কারাগারে থেকে জামিনে বের হওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসেন বাবলা। গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। কারাগারে থাকাকালীন চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার, যা মুক্তির পর আরও ঘনিষ্ঠ হয়। এরপর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি হয়। মাত্র এক মাস আগে বিয়ে করেন বাবলা। তার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ ও আবু সুফিয়ানসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতাও। বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশে তাদের পাশে দেখা গেছে তাকে। বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় গণসংযোগে গুলিবিদ্ধ হন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ তিনজন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ বাবলা পরে হাসপাতালে মারা যান। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ টার্গেট ছিলেন না। টার্গেট ছিলেন সরোয়ার বাবলা। তাকে নিশ্চিহ্ন করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা কারা ঘটাতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের কিছু প্রাথমিক তথ্য আছে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা আমাদের জন্য অশুভ বার্তা। সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করছি, প্রচারণা শুরু করার ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা বিএনপির বিষয় নয়। প্রার্থীর প্রচারণায় শত শত মানুষ অংশ নিয়েছেন। সরোয়ার বাবলা সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঠিকই, তবে এটি দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের পুরনো বিরোধের জের। বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

চিকিৎসক নেতা নারায়ণ হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাইকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক রেজাউল করিম রোববার (১৭ আগস্ট) এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন- কামরুল হাসান অরুন, মাসুম মিন্টু, সাইদ ব্যাপারী, বকুল মিয়া ও সাইদ মিজি। আমৃত্যু দণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- আবুল কালাম, সাইদুল, ফয়সাল এবং পেদা মাসুম। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- রফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় ১০ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার সূত্রে জানা যায়, ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই ছিলেন বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক। এছাড়া সে সময় তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের একজন নেতা ছিলেন। ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে মহাখালীতে হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন তিনি। হত্যাকাণ্ডের রাতে দোতলা ওই বাড়িতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. নিতাইয়ের সঙ্গে ছিলেন তার বৃদ্ধা মা। স্ত্রী লাকী চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিতাইয়ের বাবা বনানী থানার হত্যা মামলা করেন।

বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার একদিন পর স্থগিত—কে এই কামাল জামান

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার একদিনের মধ্যেই স্থগিত হয়েছে কামাল জামান নুরুদ্দিন মোল্লার প্রার্থিতা। সোমবার (৩ নভেম্বর) তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর শিবচরে তার বাড়িতে আনন্দ মিছিল ও সমর্থকদের ভিড় জমে। কেউ ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন, কেউ আবার মিষ্টি বিতরণ করেন। তবে তখনই কামাল জামান নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং উৎসবের পরিবর্তে মাঠে কাজ করার পরামর্শ দেন। পরদিন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে তার মনোনয়ন স্থগিত করে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসন ও দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্থগিত রাখা হলো।’ এর আগে সোমবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ওই তালিকায় মাদারীপুর-১ আসনে কামাল জামান মোল্লার নামও ছিল। তবে রাতে ওই আসনে মনোনয়নবঞ্চিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিএনপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর অনুসারীরা প্রতিবাদে মাঠে নামেন। তারা ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালান এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। কামাল জামান মোল্লা ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ২০০৮ সাল থেকেই তিনি স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব সোহেল রানা গণমাধ্যমে বলেন, ‘কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি আমরা জেনেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’ এ বিষয়ে কামাল জামান গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের উল্লাস করা যাবে না। সরাসরি ভোটারদের দ্বারে যেতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে আমরা আনন্দ মিছিল করব। এর আগে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। শিবচরে সকল মানুষকে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

মুলাদীতে বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে যুবদলের সভা

বরিশালের মুলাদীতে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা পৃথক কর্মসূচি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় মুলাদী পূর্ববাজার গরুর হাটে নেতাকর্মীরা জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূতির্তে এ আলোচনা সভা করেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম থাকলেও উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের দাওয়াত করা হয়নি বলে জানান কর্মীরা। তবে ওই অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান হাওলাদার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ঢালী, বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহে আলম হাওলাদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী, সদস্য সচিব জুলফিকার আহম্মেদ বিল্লাল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. ইউনুছ হাওলাদারসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, মুলাদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ঢালী বলেন, উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আয়োজনে সভা করা হয়েছে তাই বিএনপির নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি এবং তাদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান

tarique zia

তারেক রহমান

মহাসচিব

tarique zia

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বেগম জিয়া টুইটারে

বিএনপি টুইটারে

বিএনপি ফেসবুকে

বিএনপি ইউটিউবে

ভিজিটর

11058940
Today
Yesterday
This Month
All days
9438
17395
258476
11058940

Your IP: 18.97.14.82

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত শুরু জামাত
ফজর ৫-০৬ ৫-৪৫
জোহর ১২-১৪ ১-১৫
আসর ৪-২৩ ৪-৪৫
মাগরিব ৬-০৬ ৬-১১
এশা ৭-১৯ ৮-০০

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ